সুনামগঞ্জ , বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬ , ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জনগণের উন্নয়নই বিএনপির মূল লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকই থাকছে নদী ও খাল দখলকারীরা সাবধান হয়ে যান : কৃষিমন্ত্রী সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের দায়িত্ব নিলেন মিজানুর রহমান চৌধুরী পণতীর্থে মহাবারুণী স্নান আজ দখল হওয়া খালগুলো উদ্ধার করা হবে সড়কের উন্নয়নকাজে অনিয়মের অভিযোগ ‎মাসব্যাপী কিরাআত প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হাওরের বাঁধ: ‘আমরা আরম্ভ করি শেষ করি না...’ এখন থেকে কোনো ধরনের ঘুষ-দুর্নীতি সহ্য করা হবে না : বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী মিজান চৌধুরী সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের নতুন প্রশাসক শিলা বৃষ্টিতে বোরো ফসল আক্রান্ত, আগাম বন্যার শঙ্কায় কৃষক অপরিকল্পিত ফসল রক্ষা বাঁধে জলাবদ্ধতা, কৃষকের স্বপ্নভঙ্গের শঙ্কা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে প্রবাসী শ্রমিকদের জীবন শান্তিপূর্ণ দেশ গড়ার অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর হাওরে আশা-নিরাশার দোলাচল জামালগঞ্জে ব্রিটিশ বাংলা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের ঈদ উপহার বিতরণ সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল এমপি কলিম উদ্দিন মিলনকে সংবর্ধনা প্রদান জগন্নাথপুরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০

পরিচ্ছন্নতা নাগরিক অভ্যাসে পরিণত হোক

  • আপলোড সময় : ১০-১২-২০২৫ ১২:২৩:৫৩ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১০-১২-২০২৫ ১২:২৩:৫৩ পূর্বাহ্ন
পরিচ্ছন্নতা নাগরিক অভ্যাসে পরিণত হোক
সুনামগঞ্জ পৌরসভা কর্তৃক ঘোষিত ‘পরিচ্ছন্নতা পক্ষ (৮-২২ ডিসেম্বর)’ একটি সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। ‘পরিচ্ছন্ন পৌরসভা, সুস্থ নগরজীবন’ - এই স্লোগানকে সামনে রেখে শুরু হওয়া কর্মসূচির উদ্বোধনী আয়োজন দেখিয়েছে, একটি শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে চাইলে প্রশাসন, নাগরিক সমাজ ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রয়াস কতটা জরুরি। আমরা অনেকে পরিচ্ছন্নতাকে কেবল পৌরসভার দায়িত্ব বলে ধরে নিই। অথচ বাস্তবতা হলো, শহর পরিচ্ছন্ন রাখার মূল ভিত্তি নাগরিকদের সচেতনতা ও আচরণগত পরিবর্তন। ডাস্টবিন থাকার পরও রাস্তায় বা ড্রেনে ময়লা ফেলা, পলিথিন ও প্লাস্টিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার, বাজার ও সড়কের পাশে আবর্জনার স্তূপ - এসব দৃশ্য আমাদের দীর্ঘদিনের চেনা। ফলে নগর সৌন্দর্য যেমন নষ্ট হয়, তেমনি জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য সৃষ্টি হয় মারাত্মক ঝুঁকি। সুনামগঞ্জ একটি সম্ভাবনাময় পর্যটন এলাকা। হাওর, প্রকৃতি ও সংস্কৃতির জন্য দেশ-বিদেশের মানুষ এই জেলাকে চেনে। কিন্তু প্রবেশমুখেই যদি ময়লা-আবর্জনার স্তূপ, দুর্গন্ধযুক্ত ড্রেন আর এলোমেলো বর্জ্য চোখে পড়ে, তাহলে সেই সুনাম রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই পরিচ্ছন্নতা এখানে বিলাসিতা নয়, বরং টিকে থাকার শর্ত। কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা সঠিকভাবেই বলেছেন- পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ এবং সুস্থ নগরজীবনের চাবিকাঠি। পৌরসভার সীমিত জনবল ও স¤পদের বাস্তবতায় শুধু পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের ওপর দায়িত্ব চাপিয়ে দিলে কাক্সিক্ষত ফল আসবে না। প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব নিতে হবে। বাসা, দোকান, অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান - সবখানেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ন্যূনতম শৃঙ্খলা গড়ে তুলতে হবে। এখানে ‘পরিচ্ছন্নতা পক্ষ’কে কেবল ১৫ দিনের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি হিসেবে দেখলে চলবে না। এটি যেন সারা বছরের অভ্যাসে রূপ নেয়, সেদিকে নজর দিতে হবে। প্রশাসনের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠন, স্কাউট, ব্যবসায়ী সমিতি, শিক্ষার্থী ও গণমাধ্যমকে নিয়মিত ভূমিকা রাখতে হবে। প্রয়োজনে নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং ভালো কাজের জন্য উৎসাহ - এই দুই দিকই সমানভাবে কার্যকর করতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, আজ আমরা যেভাবে শহরটিকে রেখে যাচ্ছি, আগামী প্রজন্ম সেটিই উত্তরাধিকার হিসেবে পাবে। তাই “কে পরিষ্কার করবে” এই প্রশ্নের বদলে যদি আমরা বলি “আমি যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলব না” - তবেই একটি সত্যিকারের পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য সুনামগঞ্জ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। পরিচ্ছন্নতা পক্ষের সফলতা কাম্য, তবে তার চেয়েও বেশি প্রয়োজন পরিচ্ছন্নতার চর্চাকে দৈনন্দিন নাগরিক সংস্কৃতির অংশ করে তোলা। এটাই হোক এই উদ্যোগের সবচেয়ে বড় অর্জন।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স